প্রতিবছরের ২ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে “বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস” হিসেবে স্বীকৃত এবং বিশ্বব্যাপীনপালন করা হয়। এই দিনে জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশগুলিকে অটিজম ও এস্পেরগার সিনড্রম সহ অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করা হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিল যাতে “অটিজমে আক্রান্তদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা, যাতে তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে পূর্ণ ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারে”। এটি ১ নভেম্বর, ২০০৭ এ উত্থাপিত হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর ২০০৮ এ স্বীকৃতি পায়।

অটিজম মূলত একটি অনন্য সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, শিক্ষার অ-মানক উপায়, নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতি অত্যাধিক আগ্রহ, রুটিন মেনে কাজ করার প্রতি ঝোঁক, মানুষের সাথে সাধারণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা বোধ করা এবং সংবেদনশীল তথ্যের প্রক্রিয়াকরণের বিশেষ উপায় অবলম্বন করা এসব বৈশিষ্ট্যের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

জাতিসংঘ অটিজমকে একটি “আজীবন স্নায়বিক অবস্থা বলে উল্লেখ করেছে যা লিঙ্গ, বর্ণ বা আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে শৈশবকালে উদ্ভাসিত হয়। অটিজম স্পেকট্রাম শব্দটি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। অটিজমে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের এই স্নায়বিক বৈচিত্রেরকে মেনে নিয়ে, সমর্থন করে, একসাথে সমাজে থাকার ব্যবস্থা এবং গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের সমাজে সমান সুযোগ দেওয়াতে তারাও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারে।

জাতিসংঘের মতে “কোভিড ১৯” মহামারী সারা বিশ্বজুড়ে সুস্পষ্টভাবে বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে এবং এর তীব্রতা ভয়ানকভাবে বৃদ্ধি করেছে, বিষেশত যখন আয়, সম্পদ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, আইনের সুরক্ষা ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আসে। অটিজমে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বহু বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছে, যা এই মহামারীর মাধ্যমে আরো তীব্রতর হয়ে উঠেছে। অটিজমে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা বহুকালব্যাপী চাকরীর নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ যা তাদের স্বাভাবিক কাজে নানান রকমের বাধার সম্যক্ষীন হতে হয়৷

২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপনের জন্য জাতিসংঘের একটি করে থিম ছিল। এ বছরের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২১ এর থিম হলোঃ- “কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি: একটি মহামারী পরবর্তী বিশ্ব চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগসুবিধা।”

লেখাঃ মোঃ মেহেদী হাসান মিজান
ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়