রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব, আজ (১২ই জুলাই ২০২১ রোজঃ সোমবার) “সাইবার সিকুরিটি : সিকিওর ইওর ভারচুয়াল এক্সজিজটেন্স” এই শিরোনামে  একটি ওয়েবিনার প্রোগ্রামের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের  স্বাগত বক্তা হিসেবে ছিলেন মো: আলসান শাহরিয়া,পাইথন প্রোগ্রামার এন্ড সি ই ও আলসানল্যাব ও ফরমাল অর্গানাইজিং সেক্রেটারি , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব।আলোচক  হিসেবে  উপস্থিত  ছিলেন ড. বি এম মাইনুল হোসাইন, সহকারী  অধ্যাপক , ইন্সটিটিউট  অফ ইনফরমেশন  টেকনোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড. মো: বাবুল ইসলাম, অধ্যাপক, ইইই বিভাগ,রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালয়।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন মো: খাদেমুল ইসলাম মোল্লা, অধ্যাপক, সি এস ই, ফরমাল ডিরেক্টর  আইসিটি  সেন্টার , রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয় 

উক্ত অনুষ্ঠানে  উপস্থিত  ছিলেন আজীবন  সদস্য সহ অন্যান্য  সদস্যগণ । এছাড়াও  উপস্থিত ছিলেন ১২০ জনের ও অধিক শিক্ষাথী গন।

ইন্টারনেটের ব্যবহার দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে, তার সাথে বাড়ছে ইন্টারনেটে সিকিউরিটির গুরুত্ব। কারণ,সাইবার সিকিউরিটি ছাড়া ইন্টারনেট জগতে টিকে থাকা অসম্ভব । অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিন্তু ইন্টারনেটে যে সব সময় নিজেকে সিকিউর রাখতে হবে, সে ব্যাপারে তারা অজ্ঞ। ভার্চুয়াল জগতে আমরা প্রায়শই তথ্য চুরির কথা শুনতে পাই। আবার কখনো শুনি পরিচিত কারো ফেইসবুক আইডি হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে। অনেকেই শিকার হয় নানাধরনের হয়রানি কিংবা প্রতারণার৷ প্রায়ই আমাদের সামনে চলে আসে লোভনীয় সব লিংক, যেটাতে প্রবেশ করা মাত্রই আমরা আর নিজেদের আয়ত্তে থাকতে পারিনা৷

ইন্টারনেট ব্যবহার যেন আমাদের ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় তাই আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। এই জন্য সাইবার সিকিউরিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

সাইবার সিকিউরিটি হচ্ছে কোনো সাইবার অ্যাটাক থেকে নেটওয়ার্ক, ডিভাইস এবং প্রোগ্রামগুলি সুরক্ষিত ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া। ইন্টারনেটের জগতে হ্যাকিং বা ম্যালওয়ার অ্যাটাক থেকে বাঁচার জন্য যেসব ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয় সেই বিষয়গুলি সাইবার সিকিউরিটির মধ্যে পরে। ইন্টারনেট দিয়ে যেমনভাবে অনেকের ভাল করা সম্ভব তেমনিভাবে অনেকের নানাভাবে ক্ষতিও করা সম্ভব।

এই বিষয়ে সকলকে সচেতন করতে সারাদেশ করোনা মহামারির কারনে প্রোগ্রামটি  জুম এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে  রাখেন  মো: আলসান শাহরিয়া । তিনি বলেন.বাস্তব জীবনে আমাদের সাইবার সিকিউরিটি সম্পকে জানা অত্যন্ত  জরুরি। ব্যক্তিগত  তথ্য সংরক্ষন ও সাইবার অ্যাটাক থেকে বাচার জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে।   ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী ১৬.৮ বিলিয়ন প্রতিদিনে ক্ষতি হয়ে থাকছে। বেসিক ডাটা গুলোকে সংরক্ষনের ক্ষেত্রে সচেতন  হতে হবে। মেইল  আইডি বা মোবাইল  নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড  এর ক্ষেত্রে সচেতন  থাকতে হবে।শক্তিশালী  পাসওয়ার্ড  ব্যাবহার  করতে হবে।  ছাত্র ছাত্রী দের তাদের ব্যক্তিগত  তথ্য গুলো সংরক্ষনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে।সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর  মাধ্যমে  তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

ড. মো: বিএম মাইনুল  হোসাইন  বলেন  ডিজিটাল  বিশ্বে খুব দ্রুত  পাসওয়ার্ড  বা যেকনো ভাবে তথ্য ফাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীরা সবথেকে বেশি সাইবার অ্যাটাক এর শিকার হয়ে থাকে।এর জন্য তাদের সচেতন হতে হবে।কিভাবে এসবের থেকে বাচা যায় তার জন্য অনেক ভিডিও  আছে সেগুলো দেখে এবং হাল্কা রিসার্চ  এর মাধ্যমে  জানতে হবে।ইন্টারনেটে বিভিন্ন  সাইট বা ব্লগ দেখে নিজেদের সচেতন করতে হবে।সর্বপরি রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবকে ধন্যবাদ  জানান তাকে আমন্ত্রন জানানোর  জন্য।

ড. মো:বাবুল ইসলাম আমাদেরকে   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর আইন সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সাবধান করেন যাতে কেউ কোন জালিয়াতির ফাদে পা না দেই। এছাড়াও  উনি বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে তথ্য হ্যাকিং বিষয় টা সুস্পষ্ট করেছেন এবং সাবধান করেছেন।এছাড়াও স্কলারশিপের বিভিন্ন ফিল্ড,রিসার্চ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কোর্স সম্পর্কে জ্ঞাতব্য করেছেন।

সেমিনারটিতে আরও ছিল টেন মিনিট কুইজ। কুইজে বিজয়ীরা হলেন সাফান আহমেদ দেওয়ান,জান্নাতুল  মাহি,সোহেল রানা,আব্দুল্লাহ  মুইন ও মো: মুতাসিম বিল্লাহ।

 সভাপতি মোঃ ইশতেহার আলী তার বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।সাইবার অপরাধ যা কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর সাথে সম্পর্কিত। আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক যেমন ইমেইল,ইন্টারনেট,ক্রোম সহ মোবাইল ফোনের এসএমএস,এমএমএসের অভিপ্রায়ে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত সম্মানহানি,শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি সাধিত বুঝায়কুইজে বিজয়ীদের আন্তরিক  অভিন্দন জানান।সবাইকে নিরাপদে ও সুস্থ থাকার কথা বলে তার বক্তব্য শেষ করেন। 

 সমগ্র অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব  করেন মো: ইশতেহার  আলী।

ধন্যবাদান্তে,

স্বাগতা বৃতি রায়গুপ্ত

মিডিয়া সেক্রেটারি , রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স  ক্লাব